আমাদের সম্পর্কে

জ্ঞান চর্চার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র

আমাদের গল্প

ইতিহাস ও পথচলা

প্রেক্ষাপট ও সূচনা

আমাদের গ্রন্থাগারের গল্পটি ১৯৯৮ সালের। তখন আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির হাত ধরে বিশ্বায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলো পুরো পৃথিবী। কিন্তু ঠিক সেই সময়ে আমাদের এলাকার যুবসমাজ কুসংস্কার, নিরক্ষরতা ও অজ্ঞানতার অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। তাদের ধ্যান-ধারণা ছিল প্রায় আদি যুগের মতো।

দারিদ্র্যের কষাঘাতে অনেক মেধাবী যুবক মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাসের পর উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতো, যার ফলে বিশ্ব পরিমণ্ডল থেকে তারা অনেক দূরে অবস্থান করছিল। সেসময় এখানকার যুবসমাজের কাছে পাঠ্যবইয়ের বাইরের কোনো বই বা প্রকাশনা ছিল কল্পনাতীত এবং তারা আঞ্চলিক বা জাতীয় পত্রিকায় কোনোদিন চোখ পর্যন্ত বুলায়নি।

প্রতিষ্ঠা ও পথচলা

অন্ধকারে নিমজ্জিত এই সমাজকে জ্ঞানের আলো দিয়ে বিকশিত করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকে এলাকার কয়েকজন স্বপ্নদ্রষ্টা যুবক স্বশরীরে মেধা ও শ্রম দিয়ে এগিয়ে আসেন। তাদের এই ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯ জুন ১৯৯৮ তারিখে সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলার সীমান্তবর্তী ইছামতি নদী বিধৌত ভাতশালা গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয় "ভাতশালা গণ গ্রন্থাগার"

ভাতশালা গণ গ্রন্থাগার

আমাদের মনোগ্রাম

আমাদের গ্রন্থাগারের মনোগ্রামে যেমন কয়েকটি বইয়ের মাঝখান থেকে সূর্যের মতো জ্ঞানের অফুরন্ত রশ্মি বিকশিত হতে দেখা যায়, ঠিক তেমনি ভাতশালা গণ গ্রন্থাগার আজও এলাকার মানুষের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে বদ্ধপরিকর।

28+
বছরের গৌরবময় যাত্রা
৫০০+
সদস্য

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

গ্রন্থাগারটির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে যুবসমাজকে জনসম্পদে রূপান্তরিত করা। প্রতিষ্ঠাতাদের লক্ষ্য ছিল একটি জ্ঞানভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন এবং কুসংস্কার ও গোঁড়ামীমুক্ত স্বনির্ভর সমাজ গঠন করা। পাশাপাশি, আগামী দিনের সঠিক যুব নেতৃত্ব তৈরি করাও ছিল এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম ব্রত। আমাদের গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ-৩ অনুযায়ী গ্রন্থাগারের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ:

০১

জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ গঠন

সমাজে শিক্ষার প্রসার ঘটানো এবং সবার জন্য সহজে জ্ঞান অর্জনের সমান সুযোগ তৈরি করা।

০২

অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠন

ধর্ম, বর্ণ বা সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে সবার মধ্যে সম্প্রীতি তৈরি করা এবং বৈষম্যহীন পরিবেশ প্রদান করা।

০৩

কুসংস্কার ও গোঁড়ামী মুক্ত সমাজ গঠন

বিজ্ঞানমনস্ক মনস্তত্ত্ব এবং মুক্তচিন্তার চর্চার মাধ্যমে সমাজ থেকে সকল প্রকার অন্ধত্ব ও কুসংস্কার দূর করা।

০৪

স্বনির্ভর সমাজ প্রতিষ্ঠা

জ্ঞানের আলোয় মানুষকে আলোকিত করে স্বাবলম্বী ও আত্মবিশ্বাসী নাগরিক তৈরি করা।

০৫

যুব নেতৃত্ব তৈরি করা

তরুণ সমাজকে বিভিন্ন গঠনমূলক সামাজিক কাজের সাথে সম্পৃক্ত করে দক্ষ ও যোগ্য ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে গড়ে তোলা।

আমাদের সুবিধাসমূহ

আমরা সদস্যদের জন্য সেরা সেবা প্রদান করি

বই ধার নেওয়া

মাসিক সদস্যতার মাধ্যমে বই ধার নিন

পাঠকক্ষ

শান্ত ও আরামদায়ক পরিবেশে পড়ার সুবিধা

বই অনুসন্ধান

দ্রুত বই খুঁজে পাওয়ার সুবিধা

বই অর্ডার

অনুরোধ করা বই আনার ব্যবস্থা

দীর্ঘ সময়

সপ্তাহে দীর্ঘ সময় খোলা থাকে

ইভেন্ট

নিয়মিত সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান

সাংগঠনিক কাঠামো

পরিচালনা পরিষদের কাঠামো

গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ-৫ অনুযায়ী গ্রন্থাগারের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৩টি পরিষদ রয়েছে: সাধারণ পরিষদ, পরিচালনা পরিষদ এবং উপদেষ্টা পরিষদ। পরিচালনা পরিষদের মেয়াদ ১ বছর এবং মোট সদস্য সংখ্যা ৫ জন।

সভাপতি
১ জন
সাধারণ সম্পাদক
১ জন
অর্থ সম্পাদক
১ জন
তথ্য, প্রচার ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক
১ জন
পত্রিকা ও পুস্তক সম্পাদক
১ জন
উপদেষ্টা পরিষদ

উপদেষ্টা পরিষদে অন্তর্ভুক্ত সদস্য

যাদের একান্ত প্রচেষ্টা, মেধা, কায়িক শ্রম ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই গ্রন্থাগারের সৃষ্টি ও পথচলা, তাদের নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হয়েছে।

ক্রমিক নাম পিতার নাম ঠিকানা
০১ মোঃ ফারুক আহমেদ মোঃ আব্দুল বারী বিশ্বাস ভাতশালা
গঠনতন্ত্র ও বিধিমালা

গ্রন্থাগারের সাধারণ নিয়মাবলী

গ্রন্থাগারের সদস্যপদ

মানসিকভাবে সুস্থ বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিক নির্ধারিত ফরমে আবেদন করে সদস্য হতে পারবেন। সদস্যপদ মূলত দুই প্রকার: **১) জীবন সদস্য** ও **২) সাধারণ সদস্য**। (ধারা ৪.১)

বই ধার নেয়ার নিয়ম

গ্রন্থাগার থেকে সংগৃহীত বা ইস্যুকৃত বই **১৫ (পনের) দিনের মধ্যে** ফেরত দিতে হবে। কোনো বিশেষ কারণে বই পড়া শেষ না হলে লাইব্রেরিয়ান/পুস্তক সম্পাদক অতিরিক্ত আরও **১০ দিন** সময় বৃদ্ধি করতে পারেন। (ধারা ৪.৩)

পরিচালনা পরিষদ নির্বাচনে যোগ্যতা

প্রার্থীকে অবশ্যই এসএসসি/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে, বয়স অনূর্ধ্ব ৩০ বছর হতে হবে, কমপক্ষে ১ বছর সদস্য হিসেবে সচল থাকতে হবে এবং বছরে অন্তত ৩টি বই গ্রন্থাগার থেকে ইস্যু করে পড়তে হবে। (ধারা ৬.১)

পরিচালনা পরিষদ নির্বাচন

প্রতি বছর পবিত্র ঈদুল আযহার সময় সাধারণ পরিষদের সদস্যদের প্রত্যক্ষ গোপন ব্যালটের মাধ্যমে পরিচালনা পরিষদ নির্বাচিত হয়। পরিচালনা পরিষদের মেয়াদ কাল ১ বছর। (ধারা ৫.২ ও ৬)

আমাদের সাথে যোগ দিন

জ্ঞানের যাত্রায় আমাদের সাথে থাকুন